নারীদের নিরাপদ যাতায়াত রাষ্ট্রের দায়িত্ব -শেখ রবিউল আলম

নারীদের নিরাপদ যাতায়াত রাষ্ট্রের দায়িত্ব -শেখ রবিউল আলম

 

নারীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্য ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, শুধু বাসে ওঠার পর নয়, বাসের জন্য অপেক্ষার সময় এবং বাস থেকে নামার সময়ও নারীদের জন্য নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বাসে ওঠা-নামার সময় হয়রানি, অস্বস্তি কিংবা অনিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি হলে নারীদের গণপরিবহন ব্যবহারে আগ্রহ কমে যায়। তাই নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

 

আজ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘মহিলা বাস সার্ভিস (পিংক বাস)’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক।

 

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ গণপরিবহন নিশ্চিত করতে মহিলা চালক ও মহিলা কন্ডাক্টর দ্বারা পরিচালিত শুধু নারী যাত্রীদের জন্য এই বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে।

 

মন্ত্রী বলেন, নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের পরিবহন ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক করতে সরকার কাজ করছে। ফসিল ফুয়েলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) বাসের ব্যবহার বাড়ানো হবে। ঢাকায় মাল্টিমোডাল যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও ইভি বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জানান, নারী যাত্রীদের জন্য ১০০টি পিংক কালারের ইলেকট্রিক বাস ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে ৫০টি এবং পর্যায়ক্রমে ১০০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ সেবা দ্রুত চালুর লক্ষ্যে বিদ্যমান সম্পদ ব্যবহার করে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার মধ্যেই সীমিত পরিসরে এই পিংক বাস সার্ভিস চালু করেছে বিআরটিসি।

 

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী আরো জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়া শহরের ১৩টি রুটে মোট ১৪টি বাস নিয়ে এ সেবা চালু হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ১০টি, চট্টগ্রামে ২টি এবং বগুড়ায় ২টি বাস চলাচল করবে। ঢাকায় ১০টি রুটে পরিচালিত ১০টি বাসের মধ্যে একটি একতলা এবং নয়টি দোতলা বাস। চট্টগ্রামে একটি রুটে দু’টি দোতলা বাস এবং বগুড়ায় দু’টি রুটে দু’টি দোতলা বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিশেষ বাস সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরীর ১০৬টি, চট্টগ্রামের ১২টি এবং বগুড়ার ১৬টি—সর্বমোট ১৩৪টি স্টপেজে নারী যাত্রীদের পরিবহন সেবা দেওয়া হবে।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিআরটিসির বিশেষ ‘মহিলা বাস’ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এ সার্ভিসের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো-শুধু নারী যাত্রীই নন, বাসের চালক ও কন্ডাক্টরও নারী। এসময় তিনি  আরো বলেন, আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এসব বাসে ই-টিকিটিং, সিসি ক্যামেরা এবং ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।

 

মহিলা বাস সার্ভিসে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা ডিপো, বাস ও কাউন্টারের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের পাশাপাশি ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করেছে বিআরটিসি। সম্প্রতি বিআরটিসি ও ‘সহজ’ ডটকমের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় নির্ধারিত মহিলা বাস সার্ভিসে ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বাসে ওঠার আগে টিকিট সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরো সহজ হবে এবং যাত্রীদের অপেক্ষার সময় ও কাউন্টার নির্ভরতা কমবে।

 

এছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ে ৩টি বাসে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা এবং ১টি বাসে ওয়াই-ফাই সুবিধা চালু করা হয়েছে। প্রতিটি বাসে ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) সংযোজন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব প্রযুক্তি সব বাসে সম্প্রসারণ করা হবে।

 

বিআরটিসি সূত্রে জানা যায়, নারীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি গণপরিবহনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। ভবিষ্যতে বাসের সংখ্যা ও রুট পর্যায়ক্রমে আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

 

বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সংস্থার প্রধান, বিআরটিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, মহিলা বাস সার্ভিসের যাত্রী ও সেবাগ্রহীতা এবং পরিবহন খাতের বিভিন্ন অংশীজন।

 

 

 

সূত্রঃ পিআইডি